মেকআপ প্রোডাক্টস নাম লিস্ট স্টেপ বাই স্টেপ—এই গাইডটি আপনাকে এমনভাবে সাজানো তালিকা দেবে যাতে আপনি অপ্রয়োজনীয় কিছু না কিনে, দরকারি জিনিসগুলো সঠিক ক্রমে ব্যবহার করতে পারেন এবং আপনার ত্বক ও বাজেট—দুটোই নিরাপদ থাকে।
অনেকেই মেকআপ শুরু করেন “কোনটা আগে, কোনটা পরে” বোঝার আগেই। ফলে ফাউন্ডেশন ফেটে যায়, পাউডার কেকি লাগে, আইলাইনার ছড়িয়ে পড়ে, বা পুরো লুক অস্বস্তিকর মনে হয়। বাস্তবে মেকআপ ভালো দেখানোর চেয়ে বড় বিষয় হলো সঠিক প্রস্তুতি, সঠিক প্রোডাক্ট নির্বাচন, আর পরিচ্ছন্ন ব্যবহার। এই পোস্টে আপনি পাবেন একদম বেসিক থেকে অ্যাডভান্স—একটি বাস্তবসম্মত, স্টেপ-বাই-স্টেপ প্রোডাক্ট লিস্ট, ব্যবহার পদ্ধতি, কমন ভুল, আর কেনার সময় কী দেখবেন—সব একসাথে।
আপনার জন্য এই গাইডের লক্ষ্য কী
- শুরুর জন্য ন্যূনতম দরকারি মেকআপ কিট তৈরি করা
- প্রতিটি প্রোডাক্টের কাজ, ব্যবহার ক্রম, এবং বিকল্প বোঝা
- ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক প্রোডাক্ট বাছাই শেখা
- অযথা টাকা খরচ না করে স্মার্ট কেনাকাটা করা
- ত্বক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রেখে মেকআপ করা
মেকআপ শুরু করার আগে: স্কিন প্রেপ না করলে মেকআপ টিকবে না
মেকআপের সবচেয়ে অবহেলিত অংশ হলো স্কিন প্রেপ। আপনার ত্বক যদি শুষ্ক থাকে, প্রোডাক্ট বসবে না। যদি অতিরিক্ত তেল থাকে, মেকআপ স্লিপ করবে। তাই মেকআপ প্রোডাক্টের তালিকা শুরু করার আগে ৩টি প্রেপ আইটেম বুঝে নিন। বিস্তারিত রুটিন বুঝতে চাইলে আপনার ওয়েবসাইটে স্কিনকেয়ার রুটিন গাইড দেখে নিতে পারেন।
স্কিন প্রেপের ৩টি বাধ্যতামূলক প্রোডাক্ট
- ফেসওয়াশ বা ক্লেনজার (মেকআপের আগে ত্বক পরিষ্কার করতে)
- ময়েশ্চারাইজার (ত্বক নরম ও স্মুথ রাখতে)
- সানস্ক্রিন (দিনে বাইরে গেলে বাধ্যতামূলক)
সানস্ক্রিন নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলে সানস্ক্রিন নির্বাচন গাইড পড়লে আপনার সিদ্ধান্ত সহজ হবে।
মেকআপ প্রোডাক্টস নাম লিস্ট: স্টেপ বাই স্টেপ ব্যবহার ক্রম
এখানে আমি সবচেয়ে ব্যবহারিক ক্রমটি দিচ্ছি। কিছু ক্ষেত্রে আপনি লুক ও স্কিন টাইপ অনুযায়ী সামান্য বদল করতে পারেন, কিন্তু নতুনদের জন্য এই ক্রমটাই সবচেয়ে নিরাপদ এবং ফলপ্রসূ।
স্টেপ ১: প্রাইমার (Primer)
প্রাইমার মেকআপকে “বেস” দেয়। পোর ব্লার, তেল নিয়ন্ত্রণ, বা হাইড্রেশন—যেটা আপনার দরকার, সেটাই বেছে নিন। প্রাইমার না থাকলেও চলবে, তবে আপনি যদি দেখেন ফাউন্ডেশন দ্রুত গলে যায় বা পোর বেশি চোখে পড়ে, তখন প্রাইমার সত্যিই কাজের।
- অয়লি স্কিন: ম্যাটিফাইং/অয়েল কন্ট্রোল প্রাইমার
- ড্রাই স্কিন: হাইড্রেটিং প্রাইমার
- পোর সমস্যা: পোর ব্লারিং প্রাইমার (টি-জোনে)
স্টেপ ২: কালার কারেক্টর (Color Corrector) (প্রয়োজনে)
ডার্ক সার্কেল, লালচে দাগ, বা পিগমেন্টেশন থাকলে কারেক্টর ব্যবহার করলে কনসিলার কম লাগে, লুকও ন্যাচারাল হয়। তবে নতুনদের জন্য “অবশ্যই লাগবে” এমন নয়।
- ডার্ক সার্কেল: পিচ/অরেঞ্জ টোন
- লালচে ভাব: গ্রিন টোন
- হালকা মলিনতা: ল্যাভেন্ডার টোন
স্টেপ ৩: ফাউন্ডেশন বা স্কিন টিন্ট/বিবি/সিসি ক্রিম
নতুনদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো খুব হেভি ফাউন্ডেশন নিয়ে শুরু করা। আপনার লক্ষ্য যদি দৈনন্দিন ন্যাচারাল লুক হয়, তাহলে স্কিন টিন্ট/বিবি/সিসি অনেক নিরাপদ। অফিস, ক্লাস, বা দিনের বেলায় “পরিচ্ছন্ন, ফ্রেশ” লুকের জন্য মাঝারি কাভারেজই যথেষ্ট।
ফাউন্ডেশন বাছাইয়ের ৫টি বাস্তব নিয়ম:
- শেড ম্যাচ করবেন জ-লাইন/গলায়, হাতে নয়
- দিনের আলোতে (উইন্ডোর কাছে) দেখে নিন
- অক্সিডাইজ হয় কি না ১০–১৫ মিনিট দেখে নিন
- স্কিন টাইপ অনুযায়ী ফিনিশ বাছুন (ম্যাট/ডিউই/ন্যাচারাল)
- প্রয়োজন না হলে ফুল কাভারেজে যাবেন না
স্টেপ ৪: কনসিলার (Concealer)
কনসিলার দুইভাবে ব্যবহার হয়—আন্ডারআই ঠিক করতে এবং স্পট কনসিল করতে। নতুনদের জন্য স্পট কনসিলিং শেখা খুব কার্যকর, কারণ এতে ফাউন্ডেশন কম লাগে, মুখ বেশি ন্যাচারাল থাকে।
- আন্ডারআই: আপনার স্কিন শেড থেকে ১ শেড লাইট (খুব বেশি লাইট নয়)
- স্পট কনসিল: আপনার ফাউন্ডেশন/স্কিন শেডের কাছাকাছি
স্টেপ ৫: সেটিং পাউডার (Setting Powder) / কমপ্যাক্ট
পাউডারের কাজ তেল নিয়ন্ত্রণ এবং বেস সেট করা। শুষ্ক ত্বকে বেশি পাউডার দিলে ফাটা-ফাটা দেখাতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় জায়গায় অল্প ব্যবহারই ভালো।
- অয়লি স্কিন: টি-জোনে সেটিং পাউডার
- ড্রাই স্কিন: খুব হালকা ডাস্টিং বা শুধুই কনসিলার সেট
স্টেপ ৬: ব্রো প্রোডাক্ট (Eyebrow Pencil/ Powder/ Gel)
ভ্রু আপনার মুখের ফ্রেম। নতুনদের জন্য খুব ডার্ক বা ব্লক ভ্রু না করাই ভালো। আপনার চুলের রঙের কাছাকাছি শেড নিন।
- ব্রো পেন্সিল: শেইপ ও ফাঁকা অংশ পূরণ
- ব্রো জেল: হেয়ার সেট ও ন্যাচারাল ফিনিশ
স্টেপ ৭: আইশাডো (Eyeshadow) (ঐচ্ছিক কিন্তু লুক আপগ্রেড করে)
দৈনন্দিন লুকে নিউড/ব্রাউন টোনের ২–৩টি শেডই যথেষ্ট। নতুনরা বড় প্যালেট কিনে অনেকসময় ব্যবহারই করেন না।
স্টেপ ৮: আইলাইনার (Eyeliner) / কাজল
আইলাইনার চোখকে ডিফাইন করে। পেন লাইনার নতুনদের জন্য সহজ, জেল লাইনার একটু প্র্যাকটিস চাই। কাজল/কোহল স্মাজি লুক দিতে ভালো।
স্টেপ ৯: মাসকারা (Mascara)
মাসকারা চোখকে ওপেন ও ফ্রেশ দেখায়। ওয়াটারপ্রুফ মাসকারা দীর্ঘসময় থাকে, তবে রিমুভ করতে কষ্ট হয়। আপনার দৈনন্দিন রুটিন অনুযায়ী বেছে নিন।
স্টেপ ১০: ব্লাশ (Blush)
ব্লাশ না দিলে অনেকসময় বেস মেকআপ “ফ্ল্যাট” লাগে। নতুনদের জন্য পিচ/রোজ টোন নিরাপদ। ক্রিম ব্লাশ ন্যাচারাল লাগে, পাউডার ব্লাশ কন্ট্রোল করা সহজ।
স্টেপ ১১: ব্রোঞ্জার/কন্টুর (Bronzer/Contour) (প্রয়োজনে)
নতুনদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। ভুল শেড বা ভুল প্লেসমেন্টে মুখ অস্বাভাবিক দেখাতে পারে। আপনি যদি শিখতে চান, হালকা ওয়ার্ম টোন ব্রোঞ্জার দিয়ে শুরু করুন।
স্টেপ ১২: হাইলাইটার (Highlighter) (ঐচ্ছিক)
চিকবোন, নোজ ব্রিজ, ব্রো বোন—এই জায়গাগুলোতে খুব অল্প দিলে ফ্রেশ গ্লো আসে। খুব বেশি দিলে তৈলাক্ত বা চকচকে দেখাতে পারে।
স্টেপ ১৩: লিপ প্রোডাক্টস (Lip Balm, Lip Liner, Lipstick/Lip Tint/Gloss)
ঠোঁট শুষ্ক হলে আগে লিপ বাম দিন। নতুনদের জন্য লিপ টিন্ট/ক্রিমি লিপস্টিক সহজ। লিপ লাইনার দিলে শেপ সুন্দর থাকে এবং লিপস্টিক ছড়ায় না।
স্টেপ ১৪: সেটিং স্প্রে (Setting Spray) (প্রয়োজনে)
গরম, আর্দ্রতা, দীর্ঘসময় বাইরে থাকা—এমন ক্ষেত্রে সেটিং স্প্রে সত্যিই কাজ করে। তবে প্রতিদিন না হলেও চলবে।
নতুনদের জন্য “ন্যূনতম” মেকআপ কিট: অপ্রয়োজনীয় কিছু নয়
আপনি যদি একদম শুরু করেন, তাহলে পুরো তালিকা একসাথে কেনা দরকার নেই। প্রথমে একটি বেসিক কিট করুন, পরে প্রয়োজন বুঝে যোগ করুন।
বেসিক কিট (ডেইলি/বিগিনার)
- ফেসওয়াশ
- ময়েশ্চারাইজার
- সানস্ক্রিন
- বিবি/সিসি বা লাইট ফাউন্ডেশন
- কনসিলার
- কমপ্যাক্ট/সেটিং পাউডার
- ব্রো পেন্সিল
- আইলাইনার বা কাজল
- মাসকারা
- ব্লাশ
- লিপ বাম + লিপস্টিক/টিন্ট
পার্টি/ইভেন্ট কিট (অতিরিক্ত যোগ হতে পারে)
- প্রাইমার
- আইশাডো প্যালেট (নিউড/সফট গ্ল্যাম)
- হাইলাইটার
- সেটিং স্প্রে
- লিপ লাইনার
ব্রাশ ও টুলস লিস্ট: প্রোডাক্টের মতোই গুরুত্বপূর্ণ
অনেকে দামী মেকআপ কিনে সস্তা বা ভুল টুল দিয়ে লাগান—ফল ভালো হয় না। আপনার টুলস পরিষ্কার না হলে ব্রণ, র্যাশ বা ইনফেকশনও হতে পারে।
ন্যূনতম দরকারি টুলস
- মেকআপ স্পঞ্জ (ড্যাম্প করে ব্যবহার)
- ফাউন্ডেশন/বাফিং ব্রাশ (ঐচ্ছিক কিন্তু সহায়ক)
- পাউডার ব্রাশ
- ব্লাশ ব্রাশ
- আইশাডো ব্লেন্ডিং ব্রাশ (একটি হলেই শুরু)
- আইল্যাশ কার্লার (ঐচ্ছিক)
- মেকআপ রিমুভার/ক্লেনজিং অয়েল/মাইসেলার ওয়াটার
স্কিন টাইপ অনুযায়ী প্রোডাক্ট বাছাই: ভুল হলে মেকআপ নষ্ট
অয়লি স্কিন
- জেল-বেসড ময়েশ্চারাইজার
- ম্যাট/সেমি-ম্যাট বেস প্রোডাক্ট
- টি-জোনে সেটিং পাউডার
- লং-ওয়্যার লাইনার/মাসকারা
ড্রাই স্কিন
- ক্রিমি ময়েশ্চারাইজার
- ডিউই/ন্যাচারাল ফিনিশ বেস
- ক্রিম ব্লাশ
- কম পাউডার, বেশি হাইড্রেশন
সেন্সিটিভ/অ্যাকনে-প্রোন স্কিন
- ফ্র্যাগরেন্স-ফ্রি, নন-কমেডোজেনিক প্রোডাক্ট খুঁজুন
- পুরনো স্পঞ্জ/ব্রাশ ব্যবহার করবেন না
- রাতের শেষে অবশ্যই ভালোভাবে মেকআপ রিমুভ করুন
কসমেটিকস ব্যবহারে অ্যালার্জি, উপাদান, নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রাথমিক তথ্যের জন্য উচ্চ-অথরিটি শিক্ষা-ভিত্তিক সোর্স দেখতে পারেন: FDA Cosmetics এবং ত্বক সংক্রান্ত সাধারণ পরামর্শের জন্য American Academy of Dermatology।
শেড ম্যাচিং ও রঙ নির্বাচন: বাস্তবসম্মত নিয়ম
বাংলাদেশের আলো, আবহাওয়া এবং স্কিন আন্ডারটোন—সব মিলিয়ে শেড বাছাইয়ে একটু সতর্ক হওয়া জরুরি। অনলাইনে ছবি দেখে শেড কিনলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আপনি যদি অনলাইন থেকে অর্ডার করেন, রিটার্ন/এক্সচেঞ্জ পলিসি এবং অরিজিনালিটি যাচাই সম্পর্কে অনলাইন শপিং সেফটি গাইড কাজে দেবে।
আন্ডারটোন কীভাবে বুঝবেন
- উষ্ণ (Warm): গোল্ডেন/ইয়েলো আন্ডারটোন, সোনালী গয়না বেশি মানায়
- শীতল (Cool): পিঙ্ক/রোজ আন্ডারটোন, সিলভার গয়না বেশি মানায়
- নিউট্রাল: দুটোই মোটামুটি মানায়
কমন ভুলগুলো যা নতুনরা বেশি করেন
- স্কিন প্রেপ বাদ দিয়ে সরাসরি ফাউন্ডেশন লাগানো
- হাতে শেড টেস্ট করে কিনে ফেলা
- অতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার করে কেকি লুক তৈরি করা
- আন্ডারআই কনসিলার খুব লাইট নিয়ে “গ্রে/অ্যাশি” দেখানো
- ভ্রু অতিরিক্ত ডার্ক করে মুখ কঠিন দেখানো
- মাসকারা/লাইনার না শুকাতেই চোখ রগড়ে ফেলা
- একই স্পঞ্জ/ব্রাশ দীর্ঘদিন না ধুয়ে ব্যবহার করা
- মেকআপ রিমুভ না করে ঘুমিয়ে পড়া
মেকআপ দীর্ঘক্ষণ টিকিয়ে রাখার বাস্তব কৌশল
- প্রেপে সময় দিন: পরিষ্কার ত্বক + ময়েশ্চারাইজার + সানস্ক্রিন
- কম প্রোডাক্টে কাজ করুন: পাতলা লেয়ার, প্রয়োজনমতো বিল্ড আপ
- টি-জোনে পাউডার: পুরো মুখ ঢেকে দেবেন না
- ব্লটিং পেপার/টিস্যু: অতিরিক্ত তেল আলতো করে শুষে নিন
- সেটিং স্প্রে: দীর্ঘ ইভেন্টে সহায়ক
কেনার সময় চেকলিস্ট: টাকা বাঁচান, ভুল কমান
প্রোডাক্ট কেনার আগে ৮টি প্রশ্ন
- এটা কি আমার স্কিন টাইপের জন্য?
- আমি কি নিয়মিত ব্যবহার করবো, নাকি শুধু একবার?
- শেড মিলবে তো? (ডে-লাইট টেস্ট সম্ভব?)
- একই কাজের অন্য প্রোডাক্ট কি আমার কাছে আছে?
- এটা নন-কমেডোজেনিক/সেন্সিটিভ-ফ্রেন্ডলি কি না?
- এক্সপায়ারি ও ব্যাচ কোড আছে তো?
- অরিজিনাল সোর্স/সেলার কি বিশ্বাসযোগ্য?
- রিটার্ন/এক্সচেঞ্জ পলিসি কী?
হাইজিন ও নিরাপত্তা: মেকআপ সুন্দর, কিন্তু নিরাপদ আরও জরুরি
- কারও সাথে আইলাইনার/মাসকারা/লিপস্টিক শেয়ার করবেন না
- স্পঞ্জ ও ব্রাশ নিয়মিত ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন
- চোখে ইনফেকশন থাকলে চোখের মেকআপ বন্ধ রাখুন
- পুরনো/গন্ধ পরিবর্তন হওয়া প্রোডাক্ট ব্যবহার করবেন না
- মেকআপ রিমুভার ছাড়া শুধু পানি দিয়ে ধুলে রেসিডিউ থেকে যায়
“স্টেপ বাই স্টেপ” ব্যবহার উদাহরণ: দৈনন্দিন ১০ মিনিটের রুটিন
আপনি যদি প্রতিদিন হালকা মেকআপ করতে চান, এই রুটিনটি অনুসরণ করুন:
- ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়া
- ময়েশ্চারাইজার লাগানো (১–২ মিনিট অপেক্ষা)
- সানস্ক্রিন (দিনে বাইরে গেলে)
- বিবি/সিসি বা লাইট ফাউন্ডেশন পাতলা করে
- স্পট কনসিল (চোখের নিচে/দাগে)
- টি-জোনে হালকা পাউডার
- ভ্রু ন্যাচারালভাবে পূরণ
- আইলাইনার বা কাজল হালকা
- মাসকারা এক কোট
- ব্লাশ অল্প
- লিপ বাম + টিন্ট/লিপস্টিক
অতিরিক্ত প্রশ্নের উত্তর: যা আপনি ভাবেন কিন্তু জিজ্ঞেস করেন না
ফাউন্ডেশন না থাকলে কি মেকআপ হবে?
অবশ্যই হবে। অনেক সময় কেবল কনসিলার, কমপ্যাক্ট, ব্লাশ, আর লিপ প্রোডাক্ট দিয়েই পরিষ্কার ও ফ্রেশ লুক করা যায়। আপনার লক্ষ্য যদি ন্যাচারাল লুক হয়, কম প্রোডাক্টেই ভালো ফল পাবেন।
প্রাইমার কি সত্যিই দরকার?
সবাইয়ের জন্য নয়। আপনার ত্বক যদি খুব অয়লি হয়, অথবা পোর খুব দৃশ্যমান লাগে, অথবা মেকআপ দ্রুত নষ্ট হয়—তখন প্রাইমার উপকারী। অন্যথায় স্কিন প্রেপ ঠিক থাকলে নতুনদের জন্য প্রাইমার ছাড়াও শুরু করা যায়।
সেটিং পাউডার আর কমপ্যাক্ট কি একই?
একই কাজের ওভারল্যাপ আছে, কিন্তু সবসময় এক নয়। ট্রান্সলুসেন্ট সেটিং পাউডার বেস সেট করতে বেশি ব্যবহৃত হয়, আর কমপ্যাক্ট সাধারণত টাচ-আপে সুবিধাজনক। নতুনদের জন্য একটি থাকলেই শুরু করা যায়।
দিন শেষে মেকআপ কীভাবে তুলবেন?
শুধু ফেসওয়াশ দিয়ে সবসময় মেকআপ পুরো উঠবে না। মাইসেলার ওয়াটার/ক্লেনজিং অয়েল দিয়ে আগে বেস ভেঙে তুলুন, তারপর ফেসওয়াশ। এটি আপনার ত্বককে ব্রণ ও জ্বালাপোড়া থেকে বাঁচাতে সাহায্য করবে।
উপসংহার: আপনার জন্য সেরা লিস্ট মানে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী লিস্ট
মেকআপ মানে বেশি প্রোডাক্ট নয়; মেকআপ মানে সঠিক প্রোডাক্ট, সঠিক ক্রম, এবং আপনার ত্বকের প্রতি দায়িত্বশীল থাকা। আপনি যদি আজ থেকেই ন্যূনতম কিট দিয়ে শুরু করেন, স্কিন প্রেপ ঠিক রাখেন, আর ধীরে ধীরে প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ করেন—তাহলে আপনার মেকআপ হবে আরও ন্যাচারাল, আরও পরিপাটি, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে আরামদায়ক। এই পোস্টটি আপনি বুকমার্ক করে রাখুন এবং কেনার সময় চেকলিস্ট হিসেবে ব্যবহার করুন—কারণ “যা দরকার” আর “যা ট্রেন্ড” এক জিনিস নয়। শেষ কথা, আপনার লক্ষ্য যদি বাস্তবসম্মতভাবে সঠিক ক্রমে শিখে এগোনো হয়, তাহলে এই গাইডের মূল ধারণা সবসময় মনে রাখুন: মেকআপ প্রোডাক্টস নাম লিস্ট স্টেপ বাই স্টেপ।